অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং গাজায় ত্রাণকর্মী জোমি ফ্র্যাঙ্কম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো ফৌজদারি তদন্ত না করার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে)-এর ত্রাণকর্মী ফ্র্যাঙ্কমসহ সাতজন কর্মী ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। এই ঘটনায় ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঘটনার পটভূমি
নিহত জোমি ফ্র্যাঙ্কম অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছিলেন। ওই হামলায় যুক্তরাজ্য, ফিলিস্তিন, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কর্মীরাও নিহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, হামলায় কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না এবং ভুল পরিচয়ের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে পেনি ওং প্রশ্ন তুলেছেন যে, প্রথম হামলার পর কেন কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি হামলা চালানো হলো।
অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অবস্থান
ঘটনার পরপরই অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত হিলেল নিউম্যানকে তলব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়। জবাবে পেনি ওং বলেন, এই সিদ্ধান্ত সাতজনের মৃত্যুর ঘটনার জন্য যথেষ্ট নয় এবং এর মাধ্যমে অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ড্রোনের ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ এখনো অস্ট্রেলিয়াকে হস্তান্তর করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
পরিবার ও সংস্থার প্রতিক্রিয়া
ফ্র্যাঙ্কমের পরিবার এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে এবং তারা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর তদন্ত একপাক্ষিক এবং তারা নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে। সংস্থাটি আরও জানায়, তারা যে ত্রাণবাহী গাড়িতে ছিল তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত ছিল এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলি বাহিনী আগেই জানত।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা অন্য কিছু ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করলেও ফ্র্যাঙ্কমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন দেখছে না। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, নিহত জোমি ও তার সহকর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।










