Home / আন্তর্জাতিক / কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম আপাতত যুক্ত করছে না কর্তৃপক্ষ

কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম আপাতত যুক্ত করছে না কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আপাতত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ভবনটিতে পুনরায় খোদাই করার চেষ্টা করবে না। মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করা যৌথ আবেদনে কেনেডি সেন্টারের ট্রাস্টি বোর্ড ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই সময়সীমা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধীরা, যারা মনে করছেন এটি আদালত অবমাননার শামিল।

আইনি লড়াইয়ের পটভূমি

কেনেডি সেন্টারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার নিয়োগকৃত বোর্ড এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। গত ডিসেম্বরে বোর্ড ভবনটিতে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। সমালোচকদের মতে, ১৯৬৩ সালে নিহত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মারক হিসেবে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং আইনের লঙ্ঘন ছিল এই সিদ্ধান্ত।

আদালতের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত মে মাসে একজন ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দেন যে, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের হাতে। ফলে ভবন থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত সপ্তাহে ট্রাস্টি বোর্ড ২০-৩ ভোটে পুনরায় ট্রাম্পের নামসহ কিছু নতুন নামফলক যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ও বোর্ড সদস্য জয়েস বিটি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মামলা করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বোর্ড আদালতের নির্দেশ অমান্য করার চেষ্টা করছে এবং ৮ সেপ্টেম্বরের পর তারা ফের বেআইনিভাবে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার পাঁয়তারা করতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে যথাযথ বলে দাবি করেছেন।

কাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ নাকি বিতর্কিত আড়াল

বর্তমানে কেনেডি সেন্টারের যে অংশে ট্রাম্পের নাম ছিল, সেটি একটি টারপোলিন ও ভারা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ছাদের কাঠামোগত মেরামত এবং মার্বেল পাথরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই আবরণ রাখা হয়েছে। তবে বিটির আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে, এর আগেও নাম যুক্ত ও বিয়োজন করতে গিয়ে ঐতিহাসিক মার্বেল পাথরের ক্ষতি হয়েছে, যা এই রক্ষণাবেক্ষণের আড়ালে গোপন করা হচ্ছে। কেনেডি সেন্টার কেন্দ্রিক এই আইনি জটিলতা সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *