বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার জিবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন স্বপন চাকমা নামের এক যুবক। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাঙ্গামাটির কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনার কারণ ও অপরাধীর শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত ১২ বছর বয়সী রিপন চাকমা কাপ্তাই উপজেলার হরিনছড়া এলাকার বাসিন্দা লক্ষছা চাকমার ছেলে। সে পড়াশোনার সুবাদে জিবতলীর হেডম্যান পাড়ায় তার খালুর বাড়িতে থাকতো এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সোমবার বিকেলে রিপন পাশের বাড়িতে পানি আনতে গেলে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী স্বপন চাকমা (২২) তাকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো চাকু দিয়ে শিশুটির বুকে দুইবার আঘাত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতক স্বপন চাকমা নিজেই কাপ্তাই সার্কেল অফিসে গিয়ে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত দশটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া
ওসি জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘাতকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘাতক স্বপন চাকমাকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।









