ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কারিসুন্দা গ্রামে সরকারি স্কুলের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আব্দুল হাফিজ নামের এক তরুণ এবং তার পরিবার হামলার শিকার হয়েছেন। ১৩ আগস্ট স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের পরদিন এই হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হাফিজের বাবা মোহাম্মদ মাফিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনাটি সামনে এনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক একটি সামাজিক চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী ভারতের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।
সিজেপি মূলত দেশটির অবহেলিত ও জরাজীর্ণ সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থা যাচাই করার জন্য ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’ নামক একটি প্রচারণা চালাচ্ছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, তাদের এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো স্কুলের সুপেয় পানি, টয়লেট, বিদ্যুৎ, শ্রেণিকক্ষ এবং মিড-ডে মিলের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
এর আগে, সিজেপি দিল্লিতে ৩৭ দিনের টানা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তারা এখন তৃণমূল পর্যায়ে স্কুল অডিটের কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ঘটনায় সিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার সাথে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন।
এই আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সিজেপি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্কুল পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছে। রাজস্থানের মতো রাজ্যে সরকার স্কুলগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ভিডিও ধারণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিক্ষানীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় যে পদ্ধতিগত ব্যর্থতা রয়েছে, সিজেপির এই আন্দোলন তা জনমতের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তৃণমূল পর্যায়ে জনমত গড়ে তোলাই সিজেপির শক্তির জায়গা। তবে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক নিরাপত্তা না থাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায়ই সহিংস হামলার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তবুও এই মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে সিজেপি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।










