যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে তিন দশক আগে বিখ্যাত র্যাপার টুপাক শাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি বিনু পালল অভিযোগ করেছেন যে, সাবেক গ্যাং নেতা ডুয়েন ‘কেফ ডি’ ডেভিস প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায় এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন। টুপাক শাকুরের মৃত্যুর বিচার পাওয়া এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীকে চিহ্নিত করার বিষয়টি এই মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ৬৩ বছর বয়সী ডেভিস নিজে গুলি না চালালেও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিলেন। অভিযুক্ত ডেভিস অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবী এই অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ হিসেবে অভিহিত করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবীর দাবি, তিন দশক আগের এই ঘটনায় পুলিশ অকাট্য কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি।
মামলার শুনানিতে তৎকালীন লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা গ্যারি ডেল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন গুলির পর অ্যাম্বুলেন্সে টুপাক শাকুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় র্যাপার নিজেই জানিয়েছিলেন, পুলিশকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই, তারা বিষয়টি নিজেরাই দেখে নেবেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষী ইনগ্রিড স্টোকস জানান, হত্যাকাণ্ডের রাতে তিনি এবং তার বন্ধুরা গাড়িতে ছিলেন। রাস্তায় গুলির শব্দ শোনার পর সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ডেভিসের ভাতিজা অরল্যান্ডো অ্যান্ডারসনের সাথে টুপাক শাকুরের মারামারির ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়।
২০১৯ সালে প্রকাশিত ডেভিসের আত্মজীবনী এবং তার বিভিন্ন বক্তব্য এই মামলার অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে আসামিপক্ষের দাবি, বইটির অনেক তথ্যই কেবল বিক্রির উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।










