ওমানের ধোফার গভর্নরেটের উপকূলীয় এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়া একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে সাগরে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওমানের এনভায়রনমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটির একটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকায় আটকে থাকা ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের ট্যাংকারটি থেকে প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ওমান কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে।
জাহাজটির বর্তমান অবস্থা
চলতি বছরের জুন মাসের শুরুর দিকে ওমানের আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের কাছে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ট্যাংকারটির বেশ কিছু অংশে পানি ঢুকে পড়ে এবং এটি অচল হয়ে পড়ে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত এপ্রিলে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দর থেকে তেল নিয়ে রওনা হওয়া এই জাহাজটি মে মাসের শেষে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। বর্তমানে জাহাজটি উপকূল থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
পরিবেশের ওপর প্রভাব
তেল নিঃসরণের এই ঘটনাটি ওমানের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ঘটেছে। গত বছর সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদ এই এলাকাটিকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এই এলাকায় বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপসহ নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী ও কোরাল রিফ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবে সতর্ক করেছে। গ্রিনপিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ট্যাংকারে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল যা এশিয়ায় গন্তব্য ছিল।
সরকারি উদ্যোগ
ওমানের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে আকাশপথে নজরদারি ও ডুবুরিদের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং নেভিগেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজটির অবশিষ্ট তেল অন্য ট্যাংকারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
ছায়া নৌবহর নিয়ে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারোলিন বেজেঙ্গি জাহাজটি রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া নৌবহরের অংশ হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া এই ধরনের জাহাজ ব্যবহার করে থাকে। জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পুরোনো জাহাজ ব্যবহারের ফলে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।










