সুদানের উত্তরাঞ্চলের আউন্নি খনি এলাকায় খনি ধসের ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা। রোববার ঘটা এই দুর্ঘটনা দেশটিতে অনিয়ন্ত্রিত খনি শিল্পের ভয়াবহ ঝুঁকি ও সংকটের চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।
এই দুর্ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই মধ্য সুদানের এন-নাহুদ শহরের কাছে আল-জারআ খনিতে ধসের ঘটনায় অন্তত ৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে একের পর এক খনি ধসের ঘটনা সাধারণ শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
পটভূমি
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং মুদ্রার মান ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আয়ের উৎস হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণ উত্তোলনের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে ১ ডলারের বিপরীতে সুদানের মুদ্রার মান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ডে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৫৭০ পাউন্ড।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জোসেফ টাকার বলেন, সুদানের বেশিরভাগ খনিই অনানুষ্ঠানিক এবং দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে এসব খনিতে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলত অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে শ্রমিকরা জীবন বাজি রেখে এসব অনিয়ন্ত্রিত খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও অর্থনীতি
সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর দেশটি ৭০ টন স্বর্ণ উৎপাদন করেছে। তবে এই স্বর্ণ খাতের বড় অংশই চোরাচালান বা অবৈধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্বর্ণের মাধ্যমে আরএসএফকে অর্থায়নের অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে সুদান। যদিও আবুধাবি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির সরকার বর্তমানে খনি খাত নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।









