Home / আন্তর্জাতিক / সাহেল অঞ্চলে জাতিসংঘের ভূমিকা: শান্তিরক্ষা থেকে কূটনীতির পথে

সাহেল অঞ্চলে জাতিসংঘের ভূমিকা: শান্তিরক্ষা থেকে কূটনীতির পথে

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের ভূমিকার আমূল পরিবর্তন ঘটছে, যেখানে মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসো বর্তমানে সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন (ইউএনজিএ) শুরুর প্রাক্কালে অঞ্চলটিতে বিশ্ব সংস্থাটির উপস্থিতির ধরন ও পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০১৩ সালে মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন (মিনুসমা) প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০২৩ সালের জুন মাসে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুরোধে এর সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকেই অঞ্চলটিতে বড় ধরনের কোনো সামরিক উপস্থিতি নেই জাতিসংঘের। তবে মিনুসমা চলে গেলেও জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও মানবিক কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ‘ইউএন অফিস ফর ওয়েস্ট আফ্রিকা অ্যান্ড দ্য সাহেল’ (ইউএনওডব্লিউএএস)-এর মাধ্যমে সংস্থাটি সেখানে রাজনৈতিক মধ্যস্থতা ও বিরোধ নিরসনের কাজ করছে।

সাহেল অঞ্চলের দেশগুলো বর্তমানে ইকোওয়াস (ECOWAS) থেকে বেরিয়ে এসে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ (এইএস)-এর মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোবারক আলিউয়ের মতে, বর্তমান সামরিক সরকারগুলো বহিরাগত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ মজবুত করেছে। এতে জাতিসংঘের আগের মতো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে গেছে।

নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখন সাহেলের দেশগুলো রাশিয়ার মতো নতুন অংশীদারদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। বিশ্লেষক কবির আদামু মনে করেন, জাতিসংঘের উচিত বড় আকারের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সুশাসন, নিরাপত্তা খাতের সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধমূলক কূটনীতির দিকে নজর দেওয়া।

অঞ্চলে মানবিক সংকট, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাস্তুচ্যুতির মতো সমস্যাগুলো এখনো প্রকট। জাতিসংঘ এখন সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সংকটের মূলে কাজ করার কৌশল নিয়েছে। সংস্থার নতুন লক্ষ্য হলো অঞ্চলটির দেশগুলোর সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং বিদ্যমান সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *