Home / আন্তর্জাতিক / তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিলেন মার্কিন আদালত

তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিলেন মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে দ্রুত বিতাড়িত করার ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নীতি আটকে দিয়েছেন। তিন সদস্যের বিচারপতির প্যানেল গত শুক্রবার এক রায়ে জানিয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই নীতি বেআইনি। এই রায়ের ফলে অভিবাসীরা এখন নিজ দেশে ফেরার আগে তাদের জীবনের ঝুঁকি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা আইনি প্রক্রিয়ায় জানানোর সুযোগ পাবেন, যা তাদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার রায়ে ইউএস সার্কিট জজ সেথ অ্যাফ্রেম লিখেছেন, অভিবাসীদের বিতাড়নের আগে তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ধরার জন্য একটি অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনকে যেভাবে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করছিল, আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে আদালত পদ্ধতিগত কারণে নিম্ন আদালতের রায়ের একটি অংশ বাতিল করেছে, যা অভিবাসীদের সাথে সম্পর্কযুক্ত দেশে বিতাড়ন চেষ্টার সাথে জড়িত ছিল।

আইনি লড়াই ও প্রতিক্রিয়ার নেপথ্য

ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়ালমুতো এই রায়কে অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষার জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সুরক্ষা আইন কাউকে অন্য দেশে পাঠিয়ে এড়ানো যাবে না। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এই রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে।

চলমান বিতর্ক

২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই নীতিমালা গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের মতো দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন, যাদের দক্ষিণ সুদানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন এজেন্ডা চলতি মাসে একাধিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি অভিবাসী সংক্রান্ত ভিসা নীতি এবং গ্রিন কার্ড প্রদানের নতুন নিয়ম নিয়েও আদালত ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কাছ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বর্তমান প্রশাসন।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *