যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিষয়ে নিয়মিত ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের সর্বশেষ ঘটনা এটি।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। তিনি এটিকে ‘খুবই সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, বাস্তবে এটি কীভাবে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট করেননি। এমনকি এসব গণমাধ্যমের কর্মীরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই ঘোষণার পর সিএনএন এক বিবৃতিতে একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর ‘অবৈধ আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে এবং যথাযথভাবে সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখবে। এমএস নাও (পূর্বে এমএসএনবিসি) এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকি হেনরিখ বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য সাংবাদিকদের এভাবে আলাদা করা হচ্ছে। এটি কেবল সাংবাদিকদের অধিকার নয়, বরং দেশটির সর্বোচ্চ দপ্তরে কী ঘটছে, তা জানার মার্কিন জনগণের অধিকারের সঙ্গেও জড়িত।
এই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট ও রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস যদি সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে তা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থী এবং আদালতের মাধ্যমে এটি খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টও ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া সংবাদ প্রচার করছে। এর আগে ২০২৫ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্পের প্রশাসন গণমাধ্যমের সঙ্গে নানা বিরোধে জড়িয়েছে।









