যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। হেগসেথের এই পদক্ষেপকে ঘিরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে খোদ রাজনৈতিক মহলেই তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেন। তিনি ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক আধুনিকায়নের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু পেন্টাগনের বর্তমান নেতৃত্বের সাথে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়। ড্রিসকলের এই প্রস্থানকে অনেকে সামরিক নেতৃত্বের শূন্যতা হিসেবে দেখছেন। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ অনেকেই এই রদবদলকে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ দাবি করেছেন, তিনি সামরিক বাহিনীতে ‘ওক’ (woke) সংস্কৃতি দূর করে যোদ্ধাসুলভ মনোভাব ফিরিয়ে আনতে চান। এজন্য তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই শুদ্ধি অভিযান মার্কিন বাহিনীর কমান্ড কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক সম্পদের বড় একটি অংশ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এতে করে ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গোলাবারুদ ও মিসাইলের মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি সক্ষম। ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও হেগসেথের সংস্কার পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি গত চার দশকের ভুল যুদ্ধের পর নতুন করে সামরিক চেতনা ফিরিয়ে আনার একটি চেষ্টা। তবে রণক্ষেত্রের বাস্তবচিত্র এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের সংকট এই দাবিগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।










