Home / আন্তর্জাতিক / ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণে জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা

ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণে জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের বানজারবারুতে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল। অগ্নিনির্বাপক কর্মী দ্বী সুজাতমোকো জানান, দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া ও চরম গরমের মধ্যে কাজ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ভাষ্যমতে, এটি কেবল সাধারণ আগুন নয়, বরং মাটির নিচে থাকা পিটল্যান্ড বা জলাভুমির আগুন যা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভবপর হয়ে উঠছে। এই দুর্যোগ কেবল ইন্দোনেশিয়া নয়, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর বায়ুমানকেও মারাত্মকভাবে দূষিত করে তুলেছে।

জুলাই মাসের শুরু থেকে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিওতে প্রায় দুই লক্ষ হেক্টর বনভূমি ও কৃষিজমি দাবানলে পুড়ে গেছে। এবারের পরিস্থিতিকে ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে সৃষ্ট খরা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের মতে, বোর্নিওর পিটল্যান্ডগুলো বিশাল পরিমাণ কার্বন ধরে রাখে। আগুন লাগার ফলে সেই কার্বন দ্রুত বায়ুমণ্ডলে মিশে যাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘কার্বন বোমা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানবিক বিপর্যয়
দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাজার হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি শিশু। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধোঁয়ায় থাকা সূক্ষ্ম কণা রক্তপ্রবাহে মিশে হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এরই মধ্যে এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়া অন্তত দুইজন স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অস্বাভাবিক পরিবেশ ও দায়বদ্ধতা
ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চল উজাড় এবং পিটল্যান্ড নিষ্কাশনের মাধ্যমে শিল্প প্রকল্পের বিস্তার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। যদিও স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অনেক সময় দাবানলের জন্য দায়ী করা হয়, তবে তারা দাবি করছেন যে তারা ঐতিহ্যবাহী এবং নিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির অভাবে চরম সংকটের মুখে রয়েছেন। পিটল্যান্ডে আগুন পুরোপুরি নেভাতে মাটি এমনভাবে ভিজিয়ে দিতে হয় যেন তা কাদার মতো হয়ে যায়, যা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। পরিবার থেকে দূরে থেকে এই চরম প্রতিকূলতায় কাজ চালিয়ে যাওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *