পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্রোহ দমনে দেশটির সামরিক জান্তাকে সহায়তা করেছে রাশিয়া। দেশটির রুশ রাষ্ট্রদূত ভিক্টর ভোরোপায়েভ নিজেই এই হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের বাহিনী বিদ্রোহ দমনে নাইজার সরকারকে সহযোগিতা করেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্পষ্ট করছে যে রাশিয়া এখন দেশটিতে শুধুমাত্র উগ্রপন্থী দমনে নয়, বরং সামরিক সরকারের সুরক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করছে।
নাইজারের ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার বেস ১০১-এ গত শনিবার রাতে তীব্র লড়াইয়ের পর রুশ আফ্রিকা কোরের সহায়তায় সরকারি বাহিনী ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এর আগে জানুয়ারি মাসেও একই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষায় আফ্রিকা কোরের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বাহিনীতে বর্তমানে ২০০ থেকে ৩০০ সদস্য নাইজারে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের দমনের চেয়ে সামরিক সরকার টিকিয়ে রাখা রাশিয়ার কাছে বেশি মূল্যবান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কন্ট্রোল রিস্কস-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট বেভারলি ওচিয়েং মনে করেন, এটি সামরিক জান্তার জন্য একটি রাজনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। যদিও তারা এটি স্বীকার করতে চায় না যে, নিরাপত্তার জন্য তারা এখন মস্কোর ওপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে জেনারেল আবদুরাহমান তিয়ানি ক্ষমতা দখলের পর দাবি করেছিলেন, তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবেন। কিন্তু তিন বছর পরও আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের তৎপরতা কমেনি। বরং এখন সরকার নিজের সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
রাশিয়ার এমন হস্তক্ষেপের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। মালির স্বর্ণ এবং নাইজারের ইউরেনিয়ামের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর রাশিয়ার বিশেষ নজর রয়েছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক জ্যাকব বসওয়াল। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন পাওয়ার মাধ্যমে রাশিয়া নিজের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চায়।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও, সাহেল অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে তারা অত্যন্ত সতর্ক। বড় কোনো পাল্টা আক্রমণের পরিবর্তে রাজধানী বা সরকারের সুরক্ষায় ছোট ছোট সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি পাকাপোক্ত করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কৌশলগত সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।










