যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থন করায় ব্রিটিশ ডানপন্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফকল্যান্ডসের ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ইয়ার নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ভণ্ডামির অভিযোগ তুলেছেন, যা ইসরায়েলের অন্যতম সমর্থক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ ডানপন্থীদের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে।
ফকল্যান্ডস বিতর্ক
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় ইয়ার নেতানিয়াহু লেখেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল এবং দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। ইয়ারের মতে, ইসরায়েলের উচিত আর্জেন্টিনার দাবিকে সমর্থন করা, কারণ দেশটির বর্তমান অতি-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরায়েলের বন্ধু। তিনি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।
ব্রিটিশ রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়া
ইয়ারের এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন যুক্তরাজ্যের রিস্টোর ব্রিটেন পার্টির নেতা রুপার্ট লো। তিনি সরাসরি ইয়ারকে সতর্ক করে বলেছেন, ফকল্যান্ড ব্রিটিশদেরই থাকবে এবং প্রয়োজনে তারা এর সুরক্ষায় যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত। ব্রিটিশ রক্ষণশীল দলের সাবেক এমপি কনর বার্নস ইয়ারের মন্তব্যকে বোকামি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী মহলে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।
বিশ্লেষকদের মতামত
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিষয়ের প্রভাষক রব গেইস্ট পিনফোল্ডের মতে, ইয়ার নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইউরোপে ইসরায়েলের মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ইয়ার ইসরায়েলের এমন একটি গোষ্ঠীকে খেপিয়ে তুলেছেন যারা এতদিন দেশটির পক্ষ নিয়ে কথা বলত। তবে ইসরায়েলি কোনো সরকারি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়ারের এই অবস্থানকে সমর্থন করেননি।
সম্পর্কের টানাপোড়েন
বিশ্লেষকদের ধারণা, গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, ফকল্যান্ডস ইস্যু সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে উভয় দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র রপ্তানি স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।










