ইউক্রেনের কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার আকাশপথ এখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় তিনি এ সতর্কতা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনকে বেসামরিক বিমানের ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছে।
জেলেনস্কি তার রাতের ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন, রাশিয়া এখন প্রচুর পরিমাণে ড্রোন হামলার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, যা বেসামরিক বিমানের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তার ভাষ্যমতে, রাশিয়ার আকাশসীমা এখন কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে যাতায়াতকারী বিমান সংস্থাগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে চাই। যুদ্ধের প্রভাব এখন রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের এই সতর্কতাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
বর্তমানে তুরস্ক, চীন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের বিমান সংস্থা রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার আকাশপথ এড়িয়ে চলছে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে এখনো বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে, তবে কিছু বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে। টার্কিশ এয়ারলাইন্সসহ কয়েকটি কোম্পানি নিরাপত্তার খাতিরে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কোনো বেসামরিক বিমান নয়, বরং রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও জ্বালানি স্থাপনা। তবে আকাশসীমায় ড্রোনের উপস্থিতির কারণে রাশিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।










