জার্মানির লাইপজিগে একটি ব্যর্থ ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটো রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডকে ইউরোপের জন্য নতুন ধরনের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জার্মান সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং পুলিশি তদন্তে গত ৪ আগস্টের ওই হামলার পেছনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এই কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন তারা।
লাইপজিগ বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানে বিস্ফোরকসহ ড্রোন হামলার ঘটনায় জার্মানি সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছে। ভন ডের লেয়েন এটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার পক্ষ থেকে নতুন একটি সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার এই বেপরোয়া আচরণের জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে পুরো ন্যাটো জোট জার্মানির পাশে রয়েছে।
জার্মান তদন্ত অনুযায়ী, হামলার কাজে ব্যবহৃত ড্রোনটির গঠন এবং বিস্ফোরকগুলো রাশিয়ার অন্যান্য হাইব্রিড অপারেশনের সাথে হুবহু মিলে যায়। এ ঘটনায় বেলারুশ ও লাটভিয়ার পাসপোর্টধারী দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বার্লিন বোনে অবস্থিত রাশিয়ান কনসুলেট এবং রাশিয়ান হাউস কালচারাল ইনস্টিটিউট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়া অবশ্য জার্মান সরকারের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
উত্তেজনা প্রশমনে কোনো কূটনৈতিক পথ খোলা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো সরাসরি কোনো উত্তর না দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সুযোগ জিইয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রুশ নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার বিষয়ে আলোচনা করছেন।
লাইপজিগের ঘটনার বাইরেও জার্মানি ও পোল্যান্ডের বিভিন্ন শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে নাশকতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ভন ডের লেয়েন স্পষ্ট করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ ইউরোপ এবং ন্যাটোর পক্ষ থেকে মস্কোর ওপর এই চাপ অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও বৃদ্ধি করা হবে।









