বেলজিয়ামের ব্রাসেলসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ইউরো অর্থ পাচার করা হয়েছে, যা সংগঠিত অপরাধ এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে। বেলজিয়ামের তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট ভিনসেন্ট গুয়েরার মতে, ‘ট্রেডার্স অফ গ্রেটার ইউরোপ’ নামে ৫৩২ সদস্যের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে এই অর্থ আদান-প্রদান করা হতো, যার কোনো দাপ্তরিক তথ্য বা রেকর্ড ছিল না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অর্থ সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) যোদ্ধাদের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি মাদক ও মানব পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৮২ হাজারের বেশি বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছে। বার্তাগুলো প্রধানত আরবি ভাষায় আদান-প্রদান করা হতো, যেখানে প্রাচীন ‘হাওয়ালা’ পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের পরিকল্পনা করা হতো। এই পদ্ধতিতে ব্যাংক বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডের সাহায্য ছাড়াই বিশ্বস্ত ব্রোকারদের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ পৌঁছানো হয়।
ব্রাসেলসে এই নেটওয়ার্কের হোতা আবু আদম এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারের পর তাদের মোবাইল ফোন থেকেই মূলত এই রহস্যের উন্মোচন হয়। তাদের ফোনে প্রায় ১২ হাজার লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে ৫ ইউরোর নোট ও পরিচয়পত্রের ছয় হাজার করে ছবি পাওয়া গেছে। ম্যাজিস্ট্রেট গুয়েরার ভাষ্যমতে, এটি ছিল অপরাধী চক্রের একটি বিশাল ও পেশাদার ভূগর্ভস্থ ব্যাংক ব্যবস্থা, যার ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়ন (ইবিইউ) তাদের অনুসন্ধানে দেখেছে, কেবল বেলজিয়াম নয়, অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এই হাওয়ালা ব্যবস্থা ব্যবহার করে মানব পাচার ও নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় একটি কাবাব দোকানের আড়ালে গড়ে ওঠা এমন একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পায় পুলিশ, যারা মানব পাচারের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের জন্য অভিবাসীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত। ইউরোল এবং স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সংগঠিত অপরাধীরা তাদের মুনাফা বাড়াতে এই হাওয়ালা মাধ্যমকেই প্রধান পাচার চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করছে।










