আইসল্যান্ডের রেইকজাভিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের বিষয়ে পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা। দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি জানিয়েছে, অধিকাংশ ভোট গণনার পর ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার আলোচনার বিপক্ষে বা ‘না’ পক্ষে রায় দিয়েছেন, অন্যদিকে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোটিরের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ইইউর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের অংশ হিসেবে এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল।
গণভোটের প্রেক্ষাপট
এটি সরাসরি ইইউতে যোগদানের বিষয়ে ভোট ছিল না, বরং ২০০৯ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে স্থগিত হওয়া সদস্যপদ পাওয়ার আলোচনার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার মনে করেছিল, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের সাথে ঘনিষ্ঠতা আইসল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিরোধীরা দেশের মৎস্য সম্পদ এবং সার্বভৌমিকতা হারানোর আশঙ্কায় এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
ভোটারদের অবস্থান ও বিতর্ক
আইসল্যান্ডের অর্থনীতিতে মৎস্য শিল্পের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিরোধী দলের নেতারা দাবি করেছেন, ইইউর সদস্যপদ আইসল্যান্ডের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নয়, বরং এসব সমস্যা স্থানীয় রাজনীতিবিদদেরই সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে, সমর্থকদের যুক্তি ছিল, ইইউতে যোগ দিলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সহজ হতো। আইসল্যান্ড ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা এবং শেনজেন জোনের সদস্য হওয়ায় ইইউর একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ ভোগ করছে।
ভবিষ্যৎ করণীয়
আইসল্যান্ডের সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল যে, গণভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, তারা তা মেনে নেবে। বর্তমান সরকার ২০২৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছে এবং এই মেয়াদে ইইউতে যোগদানের বিষয়ে নতুন কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া, আইসল্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া ইইউ সদস্যপদের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করার বিষয়টি এখন পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য পাঠানো হতে পারে। আপাতত আইসল্যান্ড ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমেই ইইউর সাথে তাদের বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখবে।









