বাংলাদেশের ফরিদপুর সদরের খলিলপুর এলাকায় নিজের শিশু বোনকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে মেহেদী হাসান সিয়াম নামের এক তরুণকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়। নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে লাইভে এসে অভিযুক্ত সিয়াম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করা যাবে না, দুই দিন পরপর নতুন আইন তৈরি হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক ও টিকটকে ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সিয়ামকে তার শিশু বোনের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত যুবক তার ফেসবুক পেজ ও টিকটক আইডি থেকে অতীতেও বিভিন্ন বিকৃত ও রুচিহীন শতাধিক ভিডিও আপলোড করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
লাইভে যা বললেন অভিযুক্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ে শনিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে আসেন সিয়াম। ৫১ মিনিটের ওই লাইভে তিনি ভিডিওটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি শিশুটিকে আদর করেছেন মাত্র। লাইভের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দেশের প্রচলিত আইন ও মানুষের সমালোচনা করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হিরামন বিশ্বাস জানান, তারা দুইজন আপন ভাই-বোন হলেও ভিডিওটি সামাজিকভাবে দৃষ্টিকটু। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, পাবলিক নুইসেন্স বা জনবিরক্তিকর কর্মকাণ্ডের দায়ে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে সিয়ামের বাবা মাহবুবুর রহমান ঘটনার পর লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার এই অসুস্থ প্রবণতাকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।









