যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন হোলে আয়োজিত অর্থনৈতিক নীতি বিষয়ক সম্মেলনে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শ বলেছেন, মুদ্রাস্ফীতির চাপ না কমলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কাজ করতে হবে। বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে কেভিন ওয়ার্শ বলেন, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির চিত্র কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কার্যকর হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হার দ্রুত এবং নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে না এগুলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই মন্তব্য বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সুদের হার ৩.৫ শতাংশ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে।
কেভিন ওয়ার্শ তার বক্তব্যে পরিষ্কার করেছেন যে, বাজারের আগাম সংকেত দেওয়ার চর্চা থেকে তিনি সরে আসতে চান। তিনি এটিকে নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মনে করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্শের এই বক্তব্য আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর এবং তিনি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সুদের হার বাড়ানোর পথ খোলা রেখেছেন।
বর্তমানে মার্কিন জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং প্রতিদিন এই দায় আরও বাড়ছে। সরকারি ঋণের ব্যয় কমানো এবং উচ্চমূল্যের বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর ওপর এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা।










