যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফেডারেল বিচারক রয় অল্টম্যানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনবিরোধী মন্তব্য এবং ইসলামফোবিক গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ফ্লোরিডার আইনজীবী ক্যাথরিন গিয়ানাশোর এই মাসে ইলেভেনথ সার্কিট কোর্টে এই অভিযোগটি দাখিল করেন, যা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিচারক অল্টম্যান তার দাপ্তরিক সময় ও বিচার বিভাগীয় সম্পদ ব্যবহার করে ইসরায়েলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মায়ামিতে তার কার্যালয় থেকে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন পডকাস্ট এবং মিডিয়া ইন্টারভিউতে অংশ নিচ্ছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি বিচার বিভাগীয় কর্মীদের কাজে লাগিয়ে এই প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
বিচারকের বিতর্কিত মন্তব্য
অভিযোগে বিচারক অল্টম্যানের বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের সংস্কৃতির অংশ ‘কেফিয়াহ’ স্কার্ফকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ইসলামফোবিয়া বিরোধী একটি গোষ্ঠীর সাথে আলোচনায় তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈরী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংস করাই অনেক মুসলিমের জীবনের লক্ষ্য।
ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন
বিচারক অল্টম্যান একজন কট্টর ইসরায়েল সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গির্জায় ইসরায়েলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করছেন। এছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড জিউইশ কংগ্রেসের মাধ্যমে বিচারকদের ইসরায়েল সফরের আয়োজনেও ভূমিকা রাখছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
আইনজীবী গিয়ানাশোরের মতে, একজন ফেডারেল বিচারকের এভাবে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বিষয়ে জড়িয়ে পড়া বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি মনে করেন, বিচারকদের এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ফিলিস্তিনি, আরব ও মুসলিমদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় এই অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারকরা আজীবন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। নিয়ম অনুযায়ী, বিচারক অসদাচরণের অভিযোগ প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দিতে হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি হয় অভিযোগটি খারিজ করবেন অথবা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে বিচারকের মামলার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা পদত্যাগের অনুরোধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এই অভিযোগে বিচারক অল্টম্যান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।









