বসনিয়ার সারাজেভোতে বলকান যুদ্ধের সময়কার বিতর্কিত সার্ব কমান্ডার রতকো ম্লাদিচ কারাগারে মারা গেছেন। যুদ্ধ চলাকালীন তাকে কাছ থেকে দেখা বিবিসির বিশেষ প্রতিনিধি অ্যালান লিটল জানিয়েছেন, ম্লাদিচ ছিলেন চরম মাত্রায় ধর্মান্ধ এবং বিপজ্জনক। নব্বইয়ের দশকে বসনিয়া যুদ্ধের সময় চালানো বিভিন্ন নৃশংসতার কারণে তাকে ‘বুচার অব বসনিয়া’ বা ‘বসনিয়ার কসাই’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
অ্যালান লিটলের ভাষ্যমতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে সারাজেভোর উপকণ্ঠে লুকাতসা ব্যারাকে ম্লাদিচের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। সে সময় অস্ত্র ও প্যারামিলিটারি বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকাটি উত্তপ্ত ছিল। লিটল জানান, ম্লাদিচের সাথে হাত মেলানোর সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন লোকটির মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কাজ করছে। সে সময় ম্লাদিচ নিজেকে যুগোস্লাভিয়ার ঐক্য ও সংহতির মহান রক্ষক হিসেবে দাবি করেছিলেন এবং যুদ্ধহীন একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখার কথা বলেছিলেন। তবে লিটলের কাছে তাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ধর্মান্ধ বলে মনে হয়েছিল।
ম্লাদিচের কমান্ডে থাকা বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করে। তাদের হাতে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা জাতিগত নিধন, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে স্রেব্রেনিৎসাতে সংঘটিত গণহত্যার মূল হোতা ছিলেন তিনি।
লিটল জানান, ম্লাদিচ সরাসরি অস্ত্র না চালালেও তার নেতৃত্বের কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার সময় লিটলের ক্যামেরা পার্সন তিহোমির তুনুকোভিচ সার্ব বাহিনীর গুলিতে নিহত হন, যা এই যুদ্ধের ভয়াবহতাকে তার কাছে আরও ব্যক্তিগত করে তুলেছিল।










