Home / আন্তর্জাতিক / নতুন প্রমাণের জেরে লকারবি বোমা হামলার বিচার স্থগিত

নতুন প্রমাণের জেরে লকারবি বোমা হামলার বিচার স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে লকারবি বোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত লিবিয়ার নাগরিক আবু আকিলা মোহাম্মদ খায়ের আল-মারিমির বিচার কার্যক্রম তৃতীয়বারের মতো স্থগিত করা হয়েছে। বিচার শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে নতুন একটি প্রমাণ সামনে আসায় বিচারক ড্যাবনি ফ্রেডরিখ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ব্রিটিশ বিরোধী সন্ত্রাসী হামলার বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করল।

নতুন প্রমাণ

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত ২১ আগস্ট মার্কিন সরকারের কাছে এমন কিছু নতুন তথ্য এসেছে যা আগে প্রসিকিউটর বা ডিফেন্স কারও জানা ছিল না। অভিযুক্ত আল-মারিমির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে নতুন এই তথ্যগুলো তদন্ত করা জরুরি। আল-মারিমি নিজেও বিচারকাজে বিলম্বের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। আদালতের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে বিচার শুরু হতে পারে।

হামলার পটভূমি

১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বর প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর লকারবির আকাশে বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। বিমানটি ৩১ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় বিমানের ২৫৯ জন যাত্রী ও ক্রু এবং মাটিতে থাকা লকারবির ১১ জন বাসিন্দা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৯০ জন মার্কিন এবং ৪৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা

২০২২ সাল থেকে আল-মারিমি মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। এর আগে দুইবার এই বিচার কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে শারীরিক অসুস্থতা এবং পরে প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে বিচার পেছানো হয়। এই বিলম্ব ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জন্য হতাশাজনক বলে জানিয়েছেন তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তবে ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী কারা উইপজ জানিয়েছেন, নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে যদি প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়, তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষা সার্থক হবে।

উল্লেখ্য যে, লকারবি বোমা হামলার ঘটনায় এর আগে লিবিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য আব্দুলবসেত আল-মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যিনি ২০১২ সালে মারা যান। অপর অভিযুক্ত আল আমিন খলিফা ফিমাহ নির্দোষ প্রমাণিত হন। আল-মারিমি তার বিরুদ্ধে আনা বোমা তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *