ফ্রান্সে গত ১৯ জুন থেকে এখন পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৩০১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি। ফ্রান্স এন্টার রেডিওতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এই মৃত্যুর হার ১৪ শতাংশ বেশি। চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষ শীতল হওয়ার আশায় অনিরাপদ স্থানে পানিতে নামায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন এই পরিস্থিতি
তীব্র দাবদাহের কারণে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নদী, খাল বা ব্যক্তিগত সুইমিং পুলে নামছে। মন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানান, সাঁতারের জন্য অনুমোদিত নয় এমন অনেক স্থানে পানিতে নামার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটছে। এছাড়া গরমের মধ্যে হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে নামলে শরীর শকে চলে যাওয়া এবং শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করায় বয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা দিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দাবদাহ এখন অনেক বেশি ঘন ঘন এবং তীব্র হচ্ছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট সার্ভিসের তথ্যমতে, ইউরোপ বিশ্বের দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড় হারের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। এই গরমের কারণে ফ্রান্সে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে সাঁতার কাটার এলাকাগুলোকে আরও নিরাপদ করার জন্য কাজ করছে। এর আগে জুন মাসেও মন্ত্রী সতর্ক করেছিলেন যে, ঝুঁকি বিবেচনা না করেই অনেকেই নদী ও খালে গোসল করতে নেমে পড়ছে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। দাবদাহের প্রভাব শুধু পানিতে ডুবে মৃত্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়া এবং অতিরিক্ত মৃত্যুহার বৃদ্ধির তথ্যও পাওয়া গেছে।









