Home / আন্তর্জাতিক / ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারে বিপর্যয়: মধ্য এশিয়ায় জ্বালানি সংকট

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারে বিপর্যয়: মধ্য এশিয়ায় জ্বালানি সংকট

রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ফলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কার্নেগি পলিটিকার বিশ্লেষক গালিয়া ইব্রাগিমোভা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের এই আক্রমণ কেবল রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহই ব্যাহত করেনি, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও কাজাখস্তানের মতো দেশগুলোতেও।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কাজাখস্তানে ছুটছে, যাকে নতুন শব্দে ‘ফুয়েল ট্যুরিজম’ বা জ্বালানি পর্যটন বলা হচ্ছে। কাজাখস্তান সরকার পেট্রোল রপ্তানি নিষিদ্ধ করলেও চোরাচালান থামানো যাচ্ছে না।

কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান তাদের চাহিদার বড় একটি অংশ আগে রাশিয়া থেকে আমদানি করত। রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ওমস্ক শোধনাগার ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কিরগিজস্তান সরকার পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি দিচ্ছে, আর তাজিকিস্তান ইরান থেকে তেল আমদানির চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে তাজিকিস্তান চীনের সহায়তায় নতুন তেল খনি অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে।

উজবেকিস্তানও তাদের নিজস্ব জ্বালানি মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, কারণ শোধনাগারগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মধ্য এশিয়ায় চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা ও বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অঞ্চলটির জ্বালানি নির্ভরতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *