Home / আন্তর্জাতিক / ইউক্রেনের সরকারি দুর্নীতি নিয়ে জেলেনস্কির জবাবদিহিতা চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

ইউক্রেনের সরকারি দুর্নীতি নিয়ে জেলেনস্কির জবাবদিহিতা চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

ইউক্রেনের কিয়েভে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের ভেতরে থাকা দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহিতা চেয়েছেন বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি জানান। ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ এবং যুদ্ধকালীন নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ফেদোরভ ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং ড্রোন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন। গত মাসে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান। সম্প্রতি ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা ও ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের একটি তদন্ত শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনের অন্দরমহলে দুর্নীতির প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছে। ফেদোরভ বলেন, এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এসব বিষয়ে অবগত ছিলেন কি না, তা তাকেই স্পষ্ট করতে হবে।

ফেদোরভ জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে কাজ করার সময় তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা খারাপ ছিল না এবং সরাসরি বেআইনি কোনো কাজের আদেশ তিনি পাননি। তবে বর্তমানে দায়িত্ব পালনের চেয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, যুদ্ধ চললেও নির্বাচন আয়োজন করা উচিত, কারণ গণতন্ত্রকে কোনোভাবেই যুদ্ধের অজুহাতে জিম্মি রাখা সংগত নয়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বর্তমান যুদ্ধাবস্থাকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তার মতে, এখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে এবং ইউক্রেনকে বিভক্ত করে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৈন্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রুশ প্রোপাগান্ডা রোধ করা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় বাধা।

সাবেক এই মন্ত্রী আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎপাদন শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ও সরাসরি সহায়তার প্রয়োজন। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের সমালোচনা করেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *