সিরিয়ার ইদলিবে অবস্থিত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে আটটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এটিই এই বিমানঘাঁটিতে প্রথম কোনো হামলার ঘটনা।
মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই বিমান হামলায় বিমানঘাঁটিটির ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব পক্ষকে সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিমান হামলাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছে। তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সিরিয়া তার প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখবে। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিটি দীর্ঘ ১৪ বছরের সিরীয় যুদ্ধের সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছিল। ২০১৫ সালে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে গেলেও ২০১৯ সালে এটি আসাদ বাহিনীর দখলে ফিরে আসে। তবে যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে থাকায় বিমানঘাঁটিটি দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে ইসরায়েল তাদের হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।










