চীনের হাংঝুতে এক সরকারি কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। একটি ব্যবসায়িক নৈশভোজের পর কারাওকে বারে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় চীনে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ব্যবসায়িক ওই নৈশভোজের পর ভুক্তভোগী নারীকে কারাওকে বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। নিপীড়নের সময় নারীকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যার ফলে তার কোমরে আঘাত পায়।
ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের তাদের নিজ নিজ পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চীনে কর্মক্ষেত্রে মদ্যপান বা সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা বিরল।
এই ঘটনাটি দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েবোতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বুধবার ওয়েবোতে শীর্ষ ৫০টি ট্রেন্ডিং বিষয়ের মধ্যে সাতটিই ছিল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে ছয় কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ মতামত প্রকাশ করেছেন।
নেটিজেনরা চীনের তথাকথিত ‘ড্রিংকিং টেবিল কালচার’ বা মদ্যপানের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে নারীদের মদ্যপানে বাধ্য করার চর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
চীন উইমেনস নিউজের একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল দোষীদের শাস্তি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। বরং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগের সীমা নির্ধারণ করা জরুরি, যাতে ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো সুযোগ না থাকে।










