Home / আন্তর্জাতিক / সিরিয়ায় পুলিশি হেফাজতে হোয়াইট হেলমেট কর্মীর মৃত্যু, তদন্ত শুরু

সিরিয়ায় পুলিশি হেফাজতে হোয়াইট হেলমেট কর্মীর মৃত্যু, তদন্ত শুরু

সিরিয়ার লাতাকিয়ায় পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মোহাম্মদ গামিরা নামে এক প্রাক্তন হোয়াইট হেলমেট উদ্ধারকারী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও হেফাজতে নির্যাতনের অবসান ঘটা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি
আর্থিক বিরোধের জেরে মোহাম্মদ গামিরাকে তিন দিনের জন্য হাফেহ পুলিশ স্টেশনে আটকে রাখা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তিশরিন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার হাসপাতালের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরিবারের অভিযোগ ও নির্যাতনের দাবি
নিহত গামিরার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, গামিরা দীর্ঘস্থায়ী হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা উপেক্ষা করেন। বরং টানা ৭২ ঘণ্টা তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, যার ফলে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে।

তদন্ত ও সরকারি পদক্ষেপ
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুলিশ হেফাজতে গামিরার মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জানা হবে যে, পুলিশি হেফাজতে তার প্রতি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছিল কি না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে যদি কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুত্ব ও জনমনে প্রভাব
সিরিয়ায় বন্দিদশায় নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। আসাদ আমলে দেশটির বিভিন্ন কারাগারে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সেই ভীতিকর অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না, তা নিয়ে বর্তমান সিরিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে লাতাকিয়া প্রদেশে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *