যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রা ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এই জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে নাবিকদের পরিবার ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাজে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন দায়িত্বরতরা। এমনও শোনা যাচ্ছে যে, পরিস্থিতির চাপে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সাবেক নৌবাহিনী ফটোগ্রাফার জনি বার্নেল বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রযাত্রায় বন্দি থাকা নাবিকদের মধ্যে এক ধরনের বিষণ্ণতা গ্রাস করে। তিনি তার অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন, জাহাজের নিচের স্তরে কাজ করা নাবিকরা দিনের পর দিন সূর্যের আলো দেখতে পান না। তাদের থাকার জায়গাকে তিনি ‘ভাসমান কারাগার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের মানসিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এক পরিবারের সদস্য জানান, ক্রমাগত বিকট শব্দ ও কম্পনের কারণে তার স্বজন শারীরিকভাবে অনেক ওজন হারিয়েছেন এবং চরম ক্লান্তিতে ভুগছেন।
তবে ইউএস নেভি এসোসিয়েশনের পরিচালক স্টিভ রজার্স গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনকে ‘৯৯ শতাংশ অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তা থাকা স্বাভাবিক এবং নাবিকরা তাদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, অন্যান্য ১১টি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের তুলনায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে মানসিক সমস্যার ঘটনা অনেক কম। অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, সমুদ্রে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন সবার জন্য সহজ নয়, তবে মানসিক স্বাস্থ্যকে তারা গুরুত্বের সাথেই দেখছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হ্যারল্ড কুডলারের মতে, দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকা এবং কখন বাড়িতে ফিরতে পারবেন তা না জানার অনিশ্চয়তা নাবিকদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।










