যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিবিসি। বিবিসি তাদের আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের কাছ থেকে নথিপত্র ও সাক্ষ্য গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সমন ইস্যুর বিষয়টি মামলার গুরুত্ব অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে।
মামলার পটভূমি
২০২১ সালে ক্যাপিটল দাঙ্গার আগে দেওয়া ট্রাম্পের একটি ভাষণের দুটি অংশ সম্পাদনা করে প্রচার করেছিল বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠান। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিবিসি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বক্তব্য বিকৃত করেছে। বিবিসি অবশ্য এই সম্পাদনার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়েছে, তবে মানহানির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে। বিবিসি বলছে, ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যরা ওই সময় তার সাথে ছিলেন এবং ভাষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত জ্ঞান রয়েছে, যা এই মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সমন জারির জটিলতা
আইনি নথিপত্র অনুযায়ী, বিবিসির প্রতিনিধিরা ইভানকা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনারের ফ্লোরিডার বাসভবনে সমন নিয়ে গেলে সিক্রেট সার্ভিস তাদের প্রবেশ করতে দেয়নি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের জন্য সমন নিয়ে গেলেও ভবন কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসি আদালতকে ইমেইল বা সার্টিফাইড মেইলের মাধ্যমে সমন পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের আইনি দলের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিবিসি তাদের দায় এড়াতে এবং প্রেসিডেন্ট, তার পরিবার ও সমর্থকদের হয়রানি করতে এই পথ বেছে নিয়েছে।
মামলার বর্তমান অবস্থা
ট্রাম্প গত বছর ফ্লোরিডায় এই মামলা দায়ের করেন। তবে সম্প্রতি তিনি বিবিসি স্টুডিওর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া মামলার প্রয়োজনে ট্রাম্পের আর্থিক নথিপত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই মামলার বিচার শুরু হতে পারে।









