ইউক্রেনের দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত ইজমাইল বন্দর ও মাইকোলাইভ অঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইজমাইল বন্দর এলাকার রেলওয়ে স্টেশন এবং মাইকোলাইভের উপকূলে দুটি টাগবোট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার দাবি, এসব স্থাপনা ও নৌযান ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত একটি তেল রপ্তানি কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ফলে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
মস্কোর কাছে অবস্থিত একটি ওয়্যারহাউজেও ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ড্রোন আক্রমণের জেরে রাশিয়ার ফেডারেল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মস্কোর সব বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে।
এই ড্রোন পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। লাটভিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশ করলে তাদের বিমানবাহিনী তা গুলি করে ভূপাতিত করে। এছাড়া সম্ভাব্য ড্রোন সংঘাত এড়াতে ফিনল্যান্ড বাল্টিক সাগরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নৌচলাচল সীমিত করেছে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে, যার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।










