ভারতের নয়াদিল্লিতে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের সব পাইলটকে বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী একটি ফ্লাইটে আকস্মিক উচ্চতা হারানোর ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা যাত্রী ও অংশীজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই ফ্লাইটের জ্যেষ্ঠ পাইলটকে পুনরায় মাদক পরীক্ষা দিতে হয়েছিল এবং তিনি গাঁজার পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিলেন।
অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বাজেট সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পাইলটদেরও এই পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, আগে অন্তত ১০ শতাংশ পাইলটের র্যান্ডম মাদক পরীক্ষা করা হতো।
ফ্লাইটটির দুই পাইলটকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৪ আগস্ট উড্ডয়নের পরপরই এয়ারবাসটি প্রায় ৯১ মিটার (৩০০ ফুট) নিচে নেমে গেলে ১৭ জন যাত্রী ও ক্রু আহত হন। বর্তমানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে মিলে ঘটনার তদন্ত করছে।
বিবিসির দেখা এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, এটি নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার সংকল্পেরই প্রতিফলন। এই পরীক্ষাগুলো এয়ার ইন্ডিয়ার একাডেমি, ব্রিফিং সেন্টার ও বিভিন্ন কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ সেশনের পাশাপাশি পরিচালিত হচ্ছে। নিষিদ্ধ মাদক ছাড়াও বিমান চলাচল বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ ওষুধের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে বিশেষ নজরে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় মাত্র একজন যাত্রী বেঁচে ছিলেন। গত সপ্তাহে তিউওল্ডে গেব্রেমারিয়াম এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।










