নাইজেরিয়ার আওকা-এতিতি শহরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রচেষ্টায় বিলুপ্তপ্রায় শকুন রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘শকুন রাজা’ (Vulture King) হিসেবে পরিচিত চুকউমেকা ইগওয়ে এবং নাইজেরিয়া কনজারভেশন ফাউন্ডেশন (NCF) যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় শকুনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই সংরক্ষণ প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে পরিবেশবাদীদের নজর কেড়েছে।
প্রথাগত বিশ্বাস ও কুসংস্কার
সাধারণত মৃত্যু ও পচনের প্রতীক হিসেবে শকুনকে দেখা হলেও আওকা-এতিতি শহরের বাসিন্দাদের কাছে এর গুরুত্ব ভিন্ন। স্থানীয় ‘এনগুমা’ দেবীর উপাসনালয়কে ঘিরে থাকা বনভূমিতে শকুনদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা চুকউমেকা ইগওয়ে জানান, শকুন যখন কোনো বলিদানের জায়গায় বসে, তখন স্থানীয়রা মনে করেন দেবী সেই উৎসর্গ গ্রহণ করেছেন। এই বিশ্বাসের কারণেই স্থানীয়রা শকুন শিকার করেন না।
পরিবেশগত বিপর্যয় ও হুমকি
আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে দ্রুত নগরায়ন এবং গাছপালা কমে যাওয়ায় শকুনের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী ওঝা বা ভুদু চিকিৎসায় শকুনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চাহিদার কারণে এদের শিকার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। নাইজেরিয়া কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের জীববিজ্ঞানী স্টেলা এግባ জানান, গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় শকুনের সংখ্যা ৮০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শকুন না থাকলে অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্কের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, কারণ এই পাখিরা মৃত পশুর দেহাবশেষ পরিষ্কার করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে।
জনসচেতনতা ও সফলতার গল্প
বাইরের শিকারিদের হাত থেকে শকুন বাঁচাতে ইগওয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা দল ও কমিউনিটি নেতাদের সাথে কাজ করছেন। তার প্রচেষ্টায় এলাকাটিতে শকুনের সংখ্যা ২০১৭ সালের ২০টি থেকে বেড়ে ১৬০টিতে পৌঁছেছে। নাইজেরিয়া কাস্টমস সার্ভিসও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে কাজ করার কথা জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়, শকুন রক্ষায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যেমনটা দেখা গেছে আওকা-এতিতিতে।










