জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকাসহ সারা দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিলের মধ্যকার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হচ্ছে। এই নির্বাচন মূলত প্রেসিডেন্ট হিচিলেমার নেওয়া সংস্কারগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর, তা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রায় ৮৭ লাখ নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, জাম্বিয়ার ২২ মিলিয়ন জনসংখ্যার ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে। যদিও বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমেছে এবং স্থানীয় মুদ্রা কোয়াচার মান বেড়েছে, তবুও খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ।
নির্বাচনী প্রচারণায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ৬৪ বছর বয়সী হাকাইন্ডে হিচিলেমা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি গত ২০২১ সালের নির্বাচনে ষষ্ঠবারের প্রচেষ্টায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। ভোটের আগে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, জাতির ভবিষ্যৎ এখন জনগণের হাতে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিল জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইনে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে হিচিলেমার দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল মাঠে রয়েছে। এছাড়া ২২৬টি সংসদীয় আসনের জন্যও ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হবে, অন্যথায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের প্রয়োজন হবে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।










