ভারতের মুম্বাইয়ে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর এই পদে থাকছেন না। বোর্ডে তার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ৬৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে টাটা গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দরপতন ঘটেছে।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বোর্ডের অবস্থান
টাটা গ্রুপে গত কয়েক মাস ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রতিফলন ঘটেছে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তে। চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবটি বোর্ডে উঠলে একজন সদস্য এর বিরোধিতা করেন। ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও বোর্ড কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি জানান, টাটা সন্স একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান এবং এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এড়াতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের গঠনগত জটিলতা
টাটা গ্রুপের একটি অনন্য কাঠামো রয়েছে, যেখানে টাটা ট্রাস্ট নামক একটি দাতব্য সংস্থা মূল কোম্পানি টাটা সন্স-এর ৬৬ শতাংশের মালিক। এই দ্বৈত কাঠামোর ফলে একদিকে যেমন কর ও আইনি সুবিধা পাওয়া যায়, অন্যদিকে পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হয়। বোর্ডে মনোনয়ন, তহবিলের অনুমোদন এবং টাটা সন্সকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
এয়ার ইন্ডিয়ার পুনর্গঠন এবং জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলাকালীন এই নেতৃত্ব পরিবর্তন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে সাইরাস মিস্ত্রির অপসারণের পর চন্দ্রশেখরন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরবর্তী যোগ্য উত্তরাধিকারী খুঁজে পেতে গ্রুপটির হাতে ছয় মাস সময় রয়েছে।










