সিরিয়ার দামেস্কে এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং প্রাক্তন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় প্রদান করেছে। ২০১১ সালে দেরায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের এই দণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই বিচার প্রক্রিয়াকে সিরিয়ার রূপান্তরমূলক ন্যায়বিচারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আতেফ নাজিব ও অভিযোগসমূহ
আতেফ নাজিব বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই এবং ২০১১ সালে দেরায় রাজনৈতিক নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও গণহত্যাসহ অন্তত ১০টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে ৭৫ জন বাদীর সাক্ষ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নাজিব বর্তমানে সিরিয়ার কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
অনুপস্থিত বিচার ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের আল-আসাদ বর্তমানে রাশিয়ার আশ্রয়ে নির্বাসনে থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই (ইন অ্যাবসেন্টিয়া) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে তারা ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে, নাজিবকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লাতাকিয়া থেকে আটক করা হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই রায় সিরিয়ার বিচারব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত ৫ দশকের বেশি সময় ধরে আসাদ পরিবারের শাসন এবং ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার চেয়ে আসা সিরিয়ার জনগণের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই বিচার প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে অপরাধীদের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি আইনি নজির বা দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। রায়ের পর দামেস্কের রাস্তায় সাধারণ মানুষকে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।









