Home / আন্তর্জাতিক / ভূমধ্যসাগরে মানব পাচারকারী নেটওয়ার্ক ধ্বংস, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে মানব পাচারকারী নেটওয়ার্ক ধ্বংস, গ্রেপ্তার ৭৮

স্পেনের নেতৃত্বে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও পোল্যান্ডের পুলিশের সহযোগিতায় ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয় মানব পাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্যতম বৃহৎ একটি অপরাধী চক্রকে ধ্বংস করেছে কর্তৃপক্ষ। ইউরোপোল জানিয়েছে, ২০২৩ সালে স্পেনের সিভিল গার্ড ও জাতীয় পুলিশ এই অভিযান শুরু করে। গত ১৬ জুন পরিচালিত চূড়ান্ত অ্যাকশন ডে-তে ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৮টি দ্রুতগতির নৌকাসহ বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উত্তাল সমুদ্রে নৌকায় করে অভিবাসীদের স্পেনে নিয়ে আসত। অনেক সময় যাত্রীদের নৌকায় বেঁধে রাখা হতো এবং চক্রটি অভিবাসী, নিজেদের সদস্য ও পুলিশের ওপর চরম সহিংসতা চালাত। এই নেটওয়ার্ককে বর্তমানে ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে জটিল ও বিপজ্জনক অপরাধী চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্পেনের সিভিল গার্ড।

গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৭৭ জন স্পেনে এবং একজন আলজেরিয়ায় আটক হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই আলজেরিয়ার নাগরিক, যাদের সঙ্গে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি ও পোল্যান্ডের অপরাধী গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে। স্পেনের আলিকান্তে, আলমেরিয়া, কার্তাহেনা ও মুরসিয়াসহ ১৭টি স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই চক্রটি একটি লজিস্টিক কোম্পানির মতো কাজ করত। তারা ইউরোপ ও আলজেরিয়ার মধ্যে দ্বিমুখী চোরাচালান পথ ব্যবহার করত। এর মাধ্যমে দক্ষিণে সিনথেটিক মাদক পাঠানো হতো এবং উত্তর দিকে মানব পাচার করা হতো। এখন পর্যন্ত চক্রটি অন্তত ৬৪টি পাচার অভিযান চালিয়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে স্পেনে প্রবেশ করিয়েছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে তারা প্রায় ২৪ মিলিয়ন ইউরো বা ২৭ মিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। প্রতিটি অভিবাসীর কাছ থেকে ১২ হাজার ইউরো পর্যন্ত ভাড়া নিত এবং প্রতিটি নৌকায় ৫০ জন পর্যন্ত মানুষকে গাদাগাদি করে তোলা হতো।

চক্রটি অন্যান্য অপরাধী সংগঠনের জন্য নৌযান সংরক্ষণ, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির মতো সেবাও প্রদান করত। অর্থ লেনদেনের জন্য তারা ‘হাওয়ালা’ পদ্ধতি ব্যবহার করত, ফলে অবৈধ তহবিলের উৎস খুঁজে বের করা তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *