কেনিয়ার নারোক কাউন্টির মাসাই মারা ন্যাশনাল রিজার্ভে বিলাসবহুল পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশবাদীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। ইস্ট আফ্রিকা ল’ সোসাইটি, ন্যাচারাল জাস্টিসসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংস্থা এই আইনি লড়াই শুরু করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, অভয়ারণ্যের ভেতর নতুন করে কোনো নির্মাণকাজ বা সম্প্রসারণ বন্ধ করা।
সংস্থাগুলোর অভিযোগ, রিৎজ-কার্লটন সাফারি ক্যাম্পসহ বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাস্তুসংস্থান উপেক্ষা করে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩-৩২ সালের মাসাই মারা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নতুন স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না।
আইনজীবী গিচোি ওয়াতেরুর দায়ের করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্মাণকাজগুলো বন্যপ্রাণীর প্রধান অভিবাসন পথের ওপর প্রভাব ফেলছে। পরিবেশবাদীদের মতে, পর্যটনের নামে এই অসংগত উন্নয়ন ওয়াইল্ডবিস্ট, জেব্রা ও গাজেলের মতো প্রাণীদের চলাচলের পথ সংকুচিত করে ফেলেছে।
কেনিয়ার হাই কোর্টের আইনজীবী কেলভিন কুবাই বলেন, পর্যটন কোনোভাবেই বন্যপ্রাণী বা পরিবেশের বিনিময়ে হতে পারে না। তার মতে, প্রকৃতির অধিকার মানুষের বা বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়েও ঊর্ধ্বে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাসাই মারা অঞ্চলে ওয়াইল্ডবিস্টের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫৮ হাজার থেকে কমে ৩৪ হাজার ২০০ তে নেমে এসেছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, গত পাঁচ বছরে কিছু নির্দিষ্ট অভিবাসন পথে প্রাণীর আনাগোনা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল ও লাজিজি মারা লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের প্রকল্পগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত পরিকল্পনা মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে নারোক কাউন্টি কর্তৃপক্ষ ও কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস এই এলাকাকে পর্যটন বিনিয়োগ জোন হিসেবে অভিহিত করে তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ওয়াঙ্গারি কেবুচি মনে করেন, মাসাই মারা কেনিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অদূরদর্শী বাণিজ্যিক মুনাফার লোভ এই সম্পদকে শেষ করে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের পর্যটন পরিকল্পনা হতে হবে পরিবেশের সহনশীলতা ও বাস্তুসংস্থানের নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে, কেবল বাণিজ্যিক চাহিদার ওপর নয়।










