ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ক্রমাগত বাড়ছে, যা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জরুরি ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন।
হামলার বিস্তারিত
শনিবারের এই হামলায় কিয়েভে অন্তত ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শেভচেঙ্কভস্কি এলাকায় একটি আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়লে ভেতরে অনেকে আটকা পড়েন। দারনিতস্কি জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৭ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়াও সোলোমিয়ানস্কি জেলায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়ে ২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দূতাবাসের কাছে আঘাত হেনেছে, যার ফলে দূতাবাসের জানালা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।
কৃষ্ণসাগরে জাহাজ ডুবি
কিয়েভে হামলার মধ্যেই ইউক্রেনীয় ড্রোন কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার মালিকানাধীন ‘ইয়ানিয়া’ নামের একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, জাহাজটি খাদ্য ও নির্মাণ সামগ্রী বহন করছিল। নোভোরোসিস্ক থেকে ২০৯ কিলোমিটার দূরে এই হামলায় জাহাজটির ১৭ জন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোসাটমের সিইও আলেক্সি লিখাচেভ এই হামলাকে জলদস্যুতা ও লুটতরাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আহ্বান
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রাশিয়ার আকাশ হামলা অব্যাহত থাকায় এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ইউক্রেনের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চেয়ে আলোচনা করেছিলেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, উন্নত প্রযুক্তির এই অস্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।










