বাংলাদেশের ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম; চাঞ্চল্যকর এই অপরাধের ঘটনায় জড়িত দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী ফরিদপুরের একটি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই তরুণ হলো হেলাল মৃধা ও রইস শিকদার।
ভুক্তভোগীর চাচা জানান, ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে তখন কেবল ওই কিশোরী ও তার ছোট ভাই-বোন ছিল। রাত ১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। প্রথমে তারা দরজা খোলার জন্য চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
স্বজনরা জানান, অপহরণের সময় প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করা হয়। পরে একটি মোটরসাইকেলে করে মেয়েটিকে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে তিন যুবক মিলে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া করে দুই অভিযুক্তকে একটি মোটরসাইকেলসহ ধরে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানান, শাশুড়ির চোখের অপারেশনের জন্য তিনি হাসপাতালে ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে মেয়ের এই অবস্থা দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। এলাকাবাসীর হাতে আটক দুই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।










