সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে ফিফা শুক্রবার বলেছে যে তারা ‘‘ফুটবল বিক্রি করছে না’’ এবং বিতর্কিত পরিকল্পনা—প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করে সেখানে বাহ্যিক বিনিয়োগকারীদের সংক্ষিপ্ত অংশ রাখার প্রস্তাব—চালিয়ে নেবে। সংগঠনের বক্তব্যটি প্রকাশ করে ফিফা, যা এই ঘোষণা করে বলেছে প্রস্তাবটি নিয়ে গণপরামর্শ অব্যাহত থাকবে এবং সদস্য সংস্থাগুলোকে তথ্যভিত্তিক ভোটের সুযোগ দেওয়া হবে।
ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি ইউইএফএ এবং কনকাকাফসহ একাধিক কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ইউইএফএ বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছিল, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে; কনকাকাফও ৪১টি সদস্য সংস্থার অবস্থান তুলে ধরে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই বিরোধিতা বিশ্বকাপে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে।
ফিফা বলছে, তারা একটি নতুন সাবসিডিয়ারি—Fifa Forward Enterprise (FFE)—গঠন করে তাতে তৃতীয় পক্ষকে সংক্ষিপ্ত, অনিয়ন্ত্রক অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে চায়। জে পি মরগ্যান তৈরি ২৫ পৃষ্ঠার নথিতে দেখা যায় টুর্নামেন্টগুলো সম্প্রসারণ করে ২০৩৫-২০৩৯ চক্রে প্রতি সদস্য সংস্থার জন্য আনুমানিক ২৪ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পে-আউট পরিকল্পনা করা হয়েছে। নথিতে বিশ্বকাপকে ‘‘সবচেয়ে বেশি দেখা’’ ইভেন্ট হিসেবে বর্ণনা করা হলেও ফিফাকে ‘‘অল্প-মূল্যায়িত’’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; মহিলাদের খেলাকে নিয়ে নথিতে উল্লেখ নেই।
ফিফা স্টেটমেন্টে জানায়, FFE-এর মাধ্যমে প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে তাদের দেশে ফুটবলের বাণিজ্যিক অধিকার গ্রহণের সামান্য অংশ পেতে সুযোগ দেওয়া হবে এবং এর ফলে ফিফার শাসন বা ফুটবলের আত্মা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে দাবি করা হয়।
ইনফান্তিনো আগে সদস্য ফেডারেশনগুলিকে জানিয়েছিলেন যে তারা যদি তাঁর প্রস্তাবে সমর্থন দেয় তাহলে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে; প্রথম পর্যায়ের ২০ মিলিয়ন ডলার পেতে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমর্থন জানাতে হবে বলে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউইএফএ এই প্রস্তাবকে ‘‘বিশ্বকাপকে বিনিয়োগ পণ্যে পরিণত করা ঠিক নয়’’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং বলেছে এটি ফিফার দায়িত্বে ব্যর্থতা।
ফিফা বলেছে, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে Thrive Eternal নামের বিনিয়োগ গোষ্ঠী FFE-র জন্য নেতৃস্থানীয় বিনিয়োগকারী হওয়ার সম্ভাব্য প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন। Thrive হলো আমেরিকান ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার—যার ভাই হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জেরেড কুশনার।
বিভিন্ন কনফেডারেশনের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) বলেছে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন কারণ ফিফার একতরফা উদ্যোগ মহাদেশীয় ফুটবলের ভিত্তি ক্ষুন্ন করছে বলে মনে করে; এফসি জানিয়েছে প্রস্তাবের আগে বিস্তারিত গভর্ন্যান্স, আর্থিক বা আইনগত বিশ্লেষণ নামিয়ে দেওয়া হয়নি, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করে নাই; আফ্রিকা (CAF) ও ওশেনিয়া (OFC) আগস্টে এ বিষয়ে আলোচনা করবে।
বৃহস্পতিবার ইউইএফার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘বিশ্বকাপ বিক্রয়ের উপযোগী কোনো জিনিস নয়। এটি ফুটবলের অন্যতম মহান ঐতিহ্য—যা খেলোয়াড়, জাতীয় দল এবং সমর্থকদের দ্বারা সংস্কৃত হয়েছে। সেটি কোনো প্রাইভেট বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করা উচিত নয়।’’
বিশ্বের কিছু ছোট রাষ্ট্র ফিফার বিত্তীয় সহায়তার ওপর নির্ভরশীল—ফিফা ফরওয়ার্ড প্রোগ্রামের প্রথম দুই চক্রে ২০২২ পর্যন্ত ২.৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ২০২৩–২০২৬ সময়ের জন্য ফিফা ফরওয়ার্ড ৩.০ তে এছাড়াও তহবিল ৩০% বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন ডলার ও প্রতিটি কনফেডারেশনে ৬০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব বাস্তবতাও বিতর্কে অন্তর্ভুক্ত।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে ফিফা বলছে গণপরামর্শ অব্যাহত থাকবে; সদস্য ফেডারেশনগুলো ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানালে সেটি প্রভাবিত করবে। ইউইএফএ-র বয়কট হুমকি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে তা ভবিষ্যৎ অনেক বড় টুর্নামেন্ট—বিশ্বকাপ সহ—কীভাবে আয়োজন হবে তা প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়।










