পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত ব্রড পিকে তুষারধসের ঘটনায় বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ মোট ১০ জন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘এলিট এক্সপেডিশন’। নির্মল পুরজার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ছয়জন নেপালি এবং নির্মল পুরজাসহ চারজন বিদেশি পর্বতারোহীর এই মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
নির্মল পুরজার মৃত্যুর খবর প্রকাশের আগে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, তার অভিযাত্রী দলের তিনজন সদস্য—যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালোরি গেইস, ওমানের নাদিরা আহমেদ আবদুল্লাহ আল হারথি এবং নেপালের পুর বাহাদুর গুরুংয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের মুখপাত্র নাঈলা কিয়ানি জানান, উদ্ধারকর্মীরা আরও কিছু মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
৪৩ বছর বয়সী নির্মল পুরজা ছিলেন একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। ২০১৯ সালে তিনি বিশ্বের আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ মাত্র ১৮৯ দিনে আরোহন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। তার এই অর্জন নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘১৪ পিকস: নাথিং ইজ ইমপসিবল’ নামে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি হয়েছে।
২০১৮ সালে চরম উচ্চতায় পর্বতারোহণের সাফল্যের জন্য তিনি প্রয়াত রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে এমবিই পদক পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তার স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারে বসবাস করতেন।
এর আগে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের শেষ পোস্টে নির্মল পুরজা জানিয়েছিলেন, তার মূল পরিকল্পনা ছিল গাশেরব্রুম-২ পর্বত আরোহন করা। কিন্তু অভিযানের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ব্রড পিক আরোহনের সিদ্ধান্ত নেন। কোনো বাড়তি অক্সিজেন ছাড়াই বিশ্বের ১৪টি পর্বত দ্বিতীয়বার আরোহনকারী প্রথম ব্যক্তি হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছিলেন।










