লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়াসহ বিভিন্ন শহরে সিন্থেটিক মাদক ‘কুশ’-এর ভয়াবহ বিস্তারে বিপন্ন হয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। পরিবারগুলোর অভিযোগ, এই সস্তা অথচ অত্যন্ত আসক্তিকর মাদক তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। মিাতা পায়ে নামে এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় এই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। বহুবার তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। লাইবেরিয়া সরকার ২০২৪ সালে মাদক সমস্যাকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।
সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়
মাদকের কারণে অনেক তরুণ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বসবাস শুরু করেছে, যাদের স্থানীয়রা ‘জোগো’ বলে ডাকে। আব্রাহাম জ্যাকসন নামে ২৬ বছর বয়সী এক যুবক জানান, মায়ের মৃত্যুর পর বাবার আশ্রয় হারানোয় তিনিও মাদকের দিকে ঝুঁকেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সাধারণ মানুষ বেসরকারি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে সঠিক প্রশিক্ষিত কর্মী ও তদারকির অভাব রয়েছে।
চোরাচালানি চক্র ও আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ
লাইবেরিয়া ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (এলডিইএ) তথ্যমতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মাদক পাচারের অভিযোগে ১,১৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হলেও আদালতে মাত্র আটজনের সাজা হয়েছে। এর অর্থ হলো, মূল হোতারা প্রায়শই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি মারগিবি কাউন্টি থেকে কয়েক টন কোকেন উদ্ধার করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দেশটিকে আন্তর্জাতিক পাচারকারীরা ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
বর্তমান অবস্থা
কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রামাডল নিষিদ্ধ করার পর পাচারকারীরা এখন ট্যাপেন্টাডলসহ অন্যান্য সিন্থেটিক উপকরণের দিকে ঝুঁকছে। এলডিইএ-র স্পেশাল এজেন্ট জি অরল্যান্ডো ডিমি জানান, কঠোরতা বাড়ালে মাদক চক্র সাময়িকভাবে স্থবির হলেও পুনরায় তারা সক্রিয় হয়ে উঠছে। এদিকে সাধারণ মানুষ বলছে, পুলিশি অভিযানের পর মাদক ব্যবসায়ীরা দ্রুত এলাকায় ফিরে আসায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসন সেবা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, সাধারণ মানুষের দাবি—মাদক বিক্রেতাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা না হলে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা কঠিন হবে।










