ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় দেশটির বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সাতটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গণহত্যা, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং চরম দারিদ্র্য সৃষ্টির অভিযোগ এনে গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবি, ইথিওপিয়া বর্তমানে ভেঙে পড়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
জোটের অন্তর্ভুক্ত প্রধান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে আমহারার ফানো মিলিশিয়া, ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ), টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) এবং আরও চারটি ছোট সংগঠন। ইথিওপিয়ার মোট ১২টি আঞ্চলিক রাজ্যের অর্ধেকই এখন এই জোটের আওতাভুক্ত, যার মধ্যে সোমালি, আফার এবং বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের গোষ্ঠীগুলোও রয়েছে।
সরকারের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের মুখপাত্র বিলেনে সেয়ুম জানিয়েছেন, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘ সময় ধরেই একে অপরের সাথে যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছিল। তবে সরকারিভাবে এই জোটের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত জুলাই মাসে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ বলেছিলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কোনো জোটের কারণেই সরকার ভীত নয়।
সংঘাতের পটভূমি
ইথিওপিয়া বহু বছর ধরে ওরোমিয়া এবং আমহারার মতো জনবহুল রাজ্যগুলোতে সশস্ত্র সংঘাতের সম্মুখীন। পাশাপাশি উত্তরের টাইগ্রে অঞ্চলেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি চুক্তির মাধ্যমে টাইগ্রের দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হলেও বর্তমানে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
জোটের উদ্দেশ্য
জোটের অন্তর্ভুক্ত ওগাডেন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (ওএনএলএফ) মুখপাত্র আবদিকাদির আদ্দানি হিরমুগে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো বিভাজিত সম্প্রদায়গুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা। তিনি দাবি করেন, সরকার ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তি মেনে চলেনি এবং জাতিগত সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আবি আহমেদের প্রসপারিটি পার্টি পুনরায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবে সংঘাত, দমন-পীড়ন এবং বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচনটি বিতর্কিত হয়। ফানো এবং ওএলএ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া টাইগ্রে অঞ্চল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীতে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন তারা অভিন্ন শত্রু মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।








