ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে শিশু সেনা নিয়োগের একটি নতুন ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ বিষয়ক বিভাগের প্রধান আলী হাজাজি আল জাজিরাকে জানান, তাদের তথ্যমতে কেবল ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে ৬২ জন শিশুকে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা প্রকৃত ঘটনার চেয়ে অনেক কম বলে তিনি দাবি করেন।
আলী হাজাজির মতে, শিশু নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি একটি পরিকল্পিত নীতি। তিনি জানান, সরকারি বাহিনী যখন হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে অভিযান চালায়, তখন অনেক শিশু সৈন্যকে তারা আটক করে। এই শিশুরা যুদ্ধের ময়দানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয় সরকারি বাহিনী।
দারিদ্র্যের কশাঘাতে পিষ্ট অনেক পরিবারও সন্তানদের লড়াইয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সানার ১৬ বছর বয়সী আব্দুলকারিমের কাছে হুথি রিক্রুটাররা অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্থের প্রলোভন দেখিয়েছিল। তবে তার পরিবারের আপত্তির কারণে সে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে যায়নি। অন্যদিকে, হুদেদাহর ১৭ বছর বয়সী আহমেদের বাবা ইসমায়েল তার সন্তানকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠাতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি জানান, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আহমেদের মাসিক বেতন তাদের সহায়তা করছে।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইয়েমেন বিশ্লেষক আহমেদ নাজি জানান, ইয়েমেনে শিশু নিয়োগের পেছনে অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং আদর্শিক দীক্ষার মতো বিষয়গুলো বড় ভূমিকা পালন করছে। অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলো সামান্য আয়ের আশায় সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া, কোনো আত্মীয় যুদ্ধে মারা গেলে প্রতিশোধের মানসিকতা থেকেও অনেক পরিবার সন্তানদের লড়াইয়ে পাঠাচ্ছে।
ইয়েমেনের মানবাধিকার সংস্থা স্যাম অর্গানাইজেশন ফর রাইটস অ্যান্ড লিবার্টিজের প্রধান তৌফিক আল-হামিদি জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটির ১৯টি প্রদেশে ১১ হাজার ৩১০ জন শিশুকে নিয়োগ বা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ২০১৪ সালে ইয়েমেন সরকার এবং ২০২২ সালে হুথিরা শিশুদের যুদ্ধে ব্যবহার বন্ধে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
তৌফিক আল-হামিদি আরও বলেন, শিশু সৈন্যদের কেবল সরাসরি লড়াইয়েই ব্যবহার করা হচ্ছে না, বরং তাদের দিয়ে গোলাবারুদ পরিবহন, পাহারা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ল্যান্ডমাইন স্থাপনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করানো হচ্ছে। এসব শিশু শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে। কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।









