সিরিয়ার দেইর আজ জোর প্রদেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে একটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক গোপন প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগস্ট মাসে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন এবং যাচাই-বাছাই শেষে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সরকার আইএইএ পরিদর্শকদের সন্দেহভাজন সাইটগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
আইএইএ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেইর আজ জোরের ওই স্থাপনায় থাকা কুলিং অবকাঠামো একটি পারমাণবিক চুল্লির কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০৭ সালে ইসরায়েলের বিমান হামলায় স্থাপনাটি ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি গোপন রাখা হয়েছিল। সে সময় সিরিয়া কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আইএইএর কোনো প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসাদ শাসনামলে পারমাণবিক চুল্লি ছাড়াও একটি জ্বালানি তৈরির কারখানা এবং পারমাণবিক বর্জ্য ও ইউরেনিয়াম মজুত করার গোপন স্থান ছিল। আইএইএ নিশ্চিত করেছে যে, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ পারমাণবিক উপাদান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের কোনো তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে জানায়নি।
সিরিয়ার নতুন সরকার গত ১৭ জুলাই আইএইএকে একটি নতুন গোপন স্থানের তথ্য জানায় এবং পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে সংস্থাটি প্রায় ৭৩ টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম মেটাল এবং ফুয়েল রড উদ্ধার করেছে। বর্তমানে এই সমস্ত পারমাণবিক উপাদান আইএইএর নজরদারিতে রয়েছে।
নতুন সিরীয় প্রশাসন শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, দেশে পাওয়া সব পারমাণবিক উপাদান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি মেনে সিরিয়ার হেফাজতেই থাকবে।










