Home / আন্তর্জাতিক / নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডের শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে রাজপরিবার

নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডের শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে রাজপরিবার

নরওয়ের ওসলোতে রাজা পঞ্চম হারাল্ডের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন রাজপরিবারের সদস্যরা। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮৯ বছর বয়সী রাজার শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন। রাজা হারাল্ডের সহধর্মিণী রানি সোনিয়া এবং তার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকোন তাদের পূর্বনির্ধারিত সব সরকারি কর্মসূচি বাতিল করে ওসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে রাজার পাশে উপস্থিত হয়েছেন।

রাজা হারাল্ড ইউরোপের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১৯৯১ সাল থেকে তিনি নরওয়ের সিংহাসনে আসীন আছেন। বিরল রক্তরোগ হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়ার চিকিৎসার জন্য তিনি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়, যার ফলে রোগী প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টে ভোগেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে কর্টিসোন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

হাসপাতালে পরিবারের সদস্যদের আগমন

বৃহস্পতিবার সকালে ক্রাউন প্রিন্সেস মেট-মেরিটসহ রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছান। এছাড়া নরওয়ের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজার বোন প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিডও বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। রাজার অনুপস্থিতিতে ক্রাউন প্রিন্স হাকোন বর্তমানে রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহার স্টোরে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাজার এই কঠিন সময়ে পুরো জাতি রাজপরিবারের পাশে আছে।

সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকট

গত কয়েক বছর ধরে রাজা হারাল্ড বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এর আগে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ছুটি কাটানোর সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েক বছরে তাকে রাজকীয় দায়িত্বের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হয়েছে।

রাজপরিবারের চলমান চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সাল নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য বেশ কঠিন সময় হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত জুন মাসে ক্রাউন প্রিন্সেস মেট-মেরিটের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়া মেট-মেরিটের ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবি ধর্ষণ মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, যে রায়টি তিনি আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে মেট-মেরিটের সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের যোগাযোগ নিয়ে বিতর্ক এবং তার প্রেক্ষিতে ক্রাউন প্রিন্সেসের ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও দেশটিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *