Home / মতামত / নারীর নিরাপত্তা নয়, বদলাতে হবে নিরাপত্তাহীন সমাজকে

নারীর নিরাপত্তা নয়, বদলাতে হবে নিরাপত্তাহীন সমাজকে

বাংলাদেশে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় শুধু নারীর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের মানসিকতা পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন গণমাধ্যমকর্মী তাহনিয়া ইয়াসমিন। তার মতে, নারী যেখানেই যাক বা যা-ই করুক, তাকে ঘিরে থাকা অদৃশ্য ভয়ের সংস্কৃতি দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

একটি স্বাধীন দেশে একজন নারী শুধু তার লিঙ্গপরিচয়ের কারণে চলাফেরায় অনিরাপদ বোধ করবেন, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জনপথ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় অনেক হয়রানি ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। নুসরাত জাহান রাফির মতো ঘটনায় বিচার পেলেও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে যাওয়ায় বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম বড় কারণ নীরবতার সংস্কৃতি। পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে উল্টো ভুক্তভোগীকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সমাজ অনেক সময় অপরাধীর চেয়ে ভুক্তভোগীর চরিত্র বা পোশাকের দিকে আঙুল তোলে। এই মানসিকতা অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করে।

নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু নারীর একার নয়। পরিবারগুলোতে যেমন মেয়েদের সতর্ক থাকার পাঠ দেওয়া হয়, তেমনি ছেলেদেরও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, মানবিক এবং সম্মতির গুরুত্ব বোঝার শিক্ষা দিতে হবে। কোনো নারীকে সম্মান করা বা তাকে নিরাপদে চলতে দেওয়া দয়া নয়, এটি তার মৌলিক অধিকার।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অভিযোগ গ্রহণ করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সমাজকে কেবল নীরব দর্শক হয়ে না থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। নারীকে চার দেয়ালের ভেতর আটকে রাখা বা চলাফেরার স্বাধীনতা কমিয়ে দেওয়া কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। বরং যে সমাজে নারী নির্ভয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে পারে, সেটিই প্রকৃত সভ্য সমাজ।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *