অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত মো. ইয়াকুব আলী তার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে জীবনের গূঢ় অর্থ এবং প্রবাসীদের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, জীবনের চল্লিশ বছর পার করার পর প্রতিটি দিন বেঁচে থাকাকে একটি বাড়তি পাওয়া হিসেবে দেখা উচিত। মৃত্যুর অনিবার্যতাকে মেনে নিয়ে তিনি প্রবাসের জীবনের সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে সামনে নিয়ে এসেছেন।
প্রবাসে আসার মূল লক্ষ্য ছিল আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা অর্জন। সেই লক্ষ্য পূরণ হলেও তিনি অনুভব করেন, এই প্রক্রিয়ায় মানুষ শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য হারানো এবং নতুন প্রজন্মের বেড়ে ওঠায় পারিবারিক মমতার অভাব তাকে গভীরভাবে ভাবায়। তিনি বলেন, যোগাযোগ প্রযুক্তি হাতের নাগালে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত আবেগীয় সান্নিধ্য পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে মানুষ অনেক সময় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে যায়।
লেখকের মতে, জীবনের সব মৌলিক চাহিদা পূরণ হওয়ার পর একঘেয়েমি দূর করতে প্রবাসীরা অনেক সময় অহেতুক বিলাসিতা ও হুজুগের পেছনে ছোটেন। একে তিনি বানরের খেলার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, প্রদর্শনেচ্ছা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকে নিজেদের ব্যক্তিত্বের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তারকা হওয়ার মোহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারী বাড়ানোর চেষ্টা এবং খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে প্রতিযোগিতা গড়ে ওঠে, তা প্রবাস জীবনের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই কোলাহলের বাইরেও প্রবাসে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিভৃতচারী। লেখক বিশ্বাস করেন, যারা জীবনের প্রকৃত অর্থ ও শূন্যতাকে উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেই পছন্দ করেন। প্রচারসর্বস্ব এই পৃথিবীতে নিজের জীবনকে যাপনের চেয়ে প্রদর্শনের দিকেই এখনকার মানুষ বেশি ধাবিত হচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।









